বগুড়া শহরের কলোনী এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন বছর বয়সী শিশু ইয়াহিয়ার মৃত্যু নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে জেলার বেসরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার মান, তদারকি ও জবাবদিহিতা নিয়ে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ডান হাত ভেঙে যাওয়ার চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতে অপারেশনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অজ্ঞান করার ইনজেকশন দেওয়ার পর তার আর জ্ঞান ফেরেনি। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। একটি সাধারণ ভাঙা হাতের চিকিৎসা নিতে এসে একটি পরিবারকে সন্তান হারাতে হলো—এমন অভিযোগ এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে।
ঘটনার পর হাসপাতালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্বজনরা চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বগুড়ায় নামসর্বস্ব ও অনুমোদনহীন হাসপাতাল এবং অযোগ্য চিকিৎসকের ছড়াছড়ি রয়েছে; কিন্তু কার্যকর তদারকির অভাবে এসব প্রতিষ্ঠান নির্বিঘ্নে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অজ্ঞান করার আগে রোগীর শারীরিক অবস্থা, বয়স ও ঝুঁকি মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশু রোগীর ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়া আরও সতর্কতার দাবি রাখে। যথাযথ প্রস্তুতি, প্রশিক্ষিত অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ এবং জরুরি সহায়তা ব্যবস্থা না থাকলে সামান্য অস্ত্রোপচারও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
এই মৃত্যুর ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে—
হাসপাতালটির বৈধ অনুমোদন ও লাইসেন্স ছিল কি?
অপারেশনের সময় কোনো নিবন্ধিত অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ উপস্থিত ছিলেন কি?
অজ্ঞান করার আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছিল কি?
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালের সক্ষমতা কতটুকু ছিল?
একটি শিশুর মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের বেদনার বিষয়। তাই দায় নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা এবং প্রয়োজন হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে জেলার বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর লাইসেন্স, অবকাঠামো ও চিকিৎসা-মান পুনর্মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর তদারকি প্রয়োজন।
অন্যথায়, “চিকিৎসা নিতে গিয়ে মৃত্যু”—এমন শিরোনামই হয়ে উঠবে আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার নির্মম প্রতিচ্ছবি।
